a

রত্ন কি ভাগ্য বদলাতে পারে ? কি বলছে জ্যোতিষ শাস্ত্র জেনে নিন

রত্ন কি সত্যি ভাগ্য বদলাতে পারে ? আপনি রত্নে বিশ্বাস করেন ! জেনে নিন কি বলছে জ্যোতিষ শাস্ত্র

রত্ন কি ভাগ্য বদলাতে পারে ? কি বলছে জ্যোতিষ শাস্ত্র জেনে নিন
a

অঙ্গশোভার জন্য হাতের আঙ্গুলে আংটি কিংবা সেই আংটিতে পাথর লাগিয়ে পরাটা অতি প্রাচীন একটি প্রচল। পৃথিবীর সব দেশেই এই প্রচল রয়েছে। এক্ষেত্রে এটি একটি গহনা বিশেষ।

একই ভাবে, ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আংটিতে বিভিন্ন ধরনের পাথর ব্যবহারের রীতিটিও বিশ্বজনীন। কতকাল আগে থেকে এই রীতি চলে আসছে তা বলা খুবই মুশকিল।

ভাগ্য পাথর ব্যবহার দ্বারা বদলানো যায়- এটা কেউ বলেন, নিছক কুসংস্কার। কেউ বিশ্বাস করেন- খাঁটি এবং যথাযথ পাথর ব্যবহার করলে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তিত হবেই। কেউ ভাবেন, মানবদেহের ওপর পাথরের রাসায়নিক ক্রিয়া একটা বিজ্ঞানসম্মত ব্যাপার। কেউ বা ধারণা করেনৎ, পাথর মানুষের স্বাস্খ্যের ওপর নিশ্চিত প্রভাব ফেলে।

a

এই সব মত-অমতের ভিতর দিয়ে হাজার-হাজার বছর ধরে যেমন অ্যাসট্রলজি বা জোতিষশাস্ত্র এই প্রবল বিজ্ঞানের সুগেও সারা বিশ্বে চালু রয়েছে, তেমনই চালু রয়েছে পাথরের ব্যবহার।

a

মজার কথা, পৃথিবীর নানা দেশে বহু বিজ্ঞান-মনষ্ক মানুষ, এমনকি বিজ্ঞানীরা পর্যন্ত গ্রহের অশুভ প্রভাব কাটানোর জন্য এবং সৌভাগ্যলাভের আশায় জোতিষীর পরামর্শ অনুযায়ী আংটিতে নানা ধরনের পাথর ব্যবহার করছেন।

a

তাহলে এরা কি পাথার দ্বারা ভাগ্য পরিবর্তনের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি খুঁজে পেয়েছেন ? সেটা জানা যেতে পারে জরিপ , গবেষণা ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে।

a

কিছু বছর আগে ভারতীয় ‘তারা’ টিভিতে আমি একটি ইন্টারেস্টিং সাক্ষাৎকার দেখেছিলাম। তাতে কোলকাতার এক বিখ্যাত ক্যানসার বিশেষজ্ঞের সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন ‘তারা’ টিভির জনৈকা প্রতিনিধি। প্রতিনিধি প্রশ্ন করলেন- ‘’ স্যার , আপনি একজন বিজ্ঞানী। অথচ আপনার আঙ্গুলে বড় পাথরসহ একটি আংটি শোভা পাচ্ছে। এটা কেন পরছেন ? ‘’ ” চিকিৎসা-বিজ্ঞানীর এই কুসংস্কার কি গ্রহণযোগ্য ? ‘’ ক্যানসার বিশেষজ্ঞটি খুব চতুর হেসে জবাব দিলেন- ‘’ অনেকেই পরে , উপকারের আশায়। তাই আমিও পরছি। উপকার যদি হয়- তো হবে। না হলেও ক্ষতি নেই। আংটির পাথরটা অন্তত দেখতে যে খুব সুন্দর- এটুকু তো আপনি মানবেন নিশ্চয়ই।’’ — এই বলে বিজ্ঞানী মহোদয় তাঁর আংটিসমেত হাতখানা টিভি ক্যামেরার দিকে উঁচু করে তুলে ধরলেন। এই হল বৈজ্ঞানিক এবং অবৈজ্ঞানিক চিন্তার মাঝামাঝি অবস্খানের একটি নমুনা।

অ্যাস্ট্রলজির বিভিন্ন শাখার মধ্যে একটি হচ্ছে রাশিশাস্ত্র , এটা আপনারা সবাই জানেন। মূলত , রাশি বিচারের মাধ্যমেই নির্ধারণ করা হয়- কোন জাতকের জন্য কোন পাথর, এবং কত ওজনের পাথর পরা দরকার। ক্ষেত্রবিশেষে হাতের তালু বা রেখা বিচার (পামস্ট্রি) করেও পাথার দেওয়া হয়ে থাকে, বিশেষত ভারতীয় হস্তরেখা পদ্ধতিতে এর বহুল প্রয়োগ আছে। ভারতীয় ও গ্রিক- উভয় পদ্ধতিতে রাশি বিচার করে যে পাথর নির্ণয় করা হয়- তা অনেক ক্ষেত্রেই একই রকম। বেশ কিছু ক্ষেত্রে তফাতও আছে।

রত্ন কি ভাগ্য বদলাতে পারে ? কি বলছে জ্যোতিষ শাস্ত্র জেনে নিন

রত্ন কী ?

রত্নের বচশিষ্ট্য ও গঠন , রূপ , প্রকৃতি , ইত্যাদি বুঝতে হলে আমাদের যেতে হবে জিওলজি বা ভূ-তত্ত্বে। এই বিদ্যাটি সম্পৃক্ত সামগ্রিকভাবে ভূ-তল/ভূ-পৃষ্ঠের জন্ম/মূল , গঠন , রূপ , রং , ইত্যাদির সঙ্গে। এই বিজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ আমাদের সাধারণ আগ্রহী ব্যক্তিদের পক্ষে বুঝতে পারা খুবই জটিল। তবে , এটুকু জানলেই হয়তো যথেষ্ট যে, পৃথিবীর জন্মের পর থেকেই পৃথিবীর ওপরে, নিচে ও সমুদ্রের তলায় পাথর সৃষ্টি হতে শুরু করেছে, যেমন সৃষ্টি হয়েছে লোহা , তামা , ইত্যাদি অন্যসব খনিজ পদার্থ। এই খনিজ পদার্থের অনেকগুলোই জ্যোতিষশাস্ত্রের আলোকে ব্যবহার করা হয়।

পাথর সহ সকল খনিজ পদার্থই হচ্ছে রাসায়নিক দ্রব্য। এগুলো কোন্-কোন্ রাসায়নিক পদার্থের মিশ্রণ- তা জানতে হলে গবেষণাগারের বিশ্লেষণ পদ্ধতির সাহায্য নিতে হবে। এইখানে একটা অত্যন্ত জরুরি তথ্য হচ্ছে এই যে, একটা পাথর খাঁটি না সকল- তা খালিচোখে দেখে বুঝে ফেলা প্রায় অসম্ভবই বলা চলে। খাঁটি পাথর চিনতে হলে ল্যাবরেটরিতে রাসায়নিক পরীক্ষা ( কেমিক্যাল টেস্ট ) ছাড়া কোনো উপায় নেই।
ভারতের কোলকাতাসহ আরো কিছু শহরে পাথর-পরীক্ষার সুবিধা রয়েছে। অন্যান্য উন্নত দেশেও নিশ্চয়ই আছে।

রত্ন কিভাবে কাজ করে ?

চুলচেরা বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ দেওয়ার অবকাশ নেই , তবে বইপত্রের লেখা থেকে সংক্ষেপে বলা যায় —

১. পাথর একটি রাসায়নিক দ্রব্যের মিশ্রণ ( কেমিক্যাল কম্পোজিশন )। এক-এক জাতের পাথরে এক-এক রকম রাসায়নিক মিশ্রণ রয়েছে।

২. মানদেহও একটি রাসায়নিক মিশ্রণ।

৩. আংটির পাথার আঙ্গুলে চেপে থাকে। কিছুদিন এভাবে থাকার ফলে দেহ এবং পাথরের অব্যাহত স্পর্শে দেহের ওপর একটি রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া ( কেমিক্যাল রিএ্যাকশন ) সৃষ্টি হয়। হুবহু ওষুধের মতোই।

৪. কে কোন পাথর পরবেন, পাথরটার ওজন কত হওয়া উচিত- এই বিচার সঠিক হলে আংটির পাথর দৈহিক ও মানসিক স্বাস্খ্যের ওপর শক্তিশালী প্রভাব ফেলে।

৫. অন্য উল্লেখযোগ্য বিষয়টি হলো- আংটির পাথরের ওপর যখন সূর্য কিরণ পড়ে- তখন মানবদেহ পরিমিত পরিমাণ তেজস্ক্রিয় ( রেডিয়েশন ) লাভ করে।

৬. পাথর নির্বাচন সঠিক হলে ওই পুরো প্রক্রিয়াটি একজন পাথর ব্যবহারকারীর মনোদৈহিক শুভ সাধন করে। এভাবেই একজন জাতক বা জাতিকা তার নিজ সৌভাগ্য অর্জনে সক্ষম হবেন।

‘’ প্লাসিবোঁ ‘’এর ভূমিকায় পাথর :—-

প্লাসিবোঁ একটি ফরাসি শব্দ , যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি টার্ম বা পরিভাষা। ধরুন , একজন রোগীকে ১০০ ধরনের পরীক্ষা করেও কোনো রোগই ধরা পড়লো না। অথচ রোগী বলছে তার পেটে অসহ্য ব্যথা। এ অবস্খায় চিকিৎসকরা একমত হলেন যে এটা একটা সাইকোসোমাটিক পেইন- অর্থাৎ পুরোপুরি মানসিক সমস্যা থেকে এই ব্যথার উৎপত্তি। তখন রোগীকে ওষুধ হিসেবে খুব জমকালো শিশিতে কিছু ট্যাবলেট দেওয়া হলো। বলা হলো এটাই তার ব্যথার ওষুধ, একমাস খেতে হবে।

রোগী দশদিনের মাথায়ই হাসিমুখে এসে জানালো তার ব্যথা সম্পূর্ণ সেরে গেছে। আসলে, তাকে যা দেওয়া হয়েছিল- তা কোনো ওষুধই ছিল না। হয়তো বা সাধারণ কিছু ভিটামিন ট্যাবলেট ছিল মাত্র। এটাই ‘’ প্লাসিবোঁ ‘’। রোগীকে একটা বিশ্বাসের অকারে রেখে একধরনের মনোচিকিৎসা করা হল।

আমি মনে করি , পাথরের একধরনের প্লাসিবোঁ প্রতিক্রিয়া রয়েছে। রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া, রেডিয়েশন- এসবের বাইরেও পাথর ব্যবহারকারীর মনে একটি অবিশ্বাস খুব শাক্তিশালীভাবে কাজ করে। ফলে এটা একটা সাইকোথেরাপির ভূমিকা নেয়। তার আত্মবিশ্বাসের মাত্রা বেড়ে যায়। এভাবেই আসে তার সাফল্য।

একজন জাতক না-জেনে একটি নকল পাথর ব্যবহার করেও উপকার পেয়ে যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে পাথরটিকে তো পুরোপুরি প্ল্যসিবোঁ আখ্যা দিতেই হবে।

রত্ন কি ভাবে নির্বাচন করবেন ?

পাথর নির্বাচনের পদ্ধতি রয়েছে বিভিন্ন। দেশে-দেশেও এর তারতম্য হতে পারে। তাছাড়া, রোগ নিরাময়ে অথবা রোগ প্রতিরোধেও পাথরের ব্যবহার চলে আসছে সুদূর অতীত থেকে। এটাকে বলা হচ্ছে জেম-থেরাপি। যেমন ধরুন, ডায়াবেটিস রোগীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে ডায়ামণ্ড ( হীরা ) ১ থেকে ৩ ক্যারেট এবং মুনস্টোন ৭ থেকে ১০ ক্যারেট একসঙ্গে ব্যবহার করতে।

জেরিল কিন- এর রত্ন নির্বাচন
পাশ্চাত্যের জ্যোতিষশাস্ত্রবিদ ও বিখ্যাত পাথর বিশেষজ্ঞ জেরিল কিন রাশির ভিত্তিতে পাথর নির্বাচনের একটি ফর্মুলা উপস্খাপন করেছেন। এটি তাঁর দীর্ঘ গবেষণা ও অভিজ্ঞতার ফসল।

প্রতি রাশির প্রতি জাতক-জাতিকাকে জেরিল কিন মাত্র একটি পাথর পরতে নির্দেশ করেছেন। একান্ত প্রয়োজনে হয়তো দ্বিতীয় একটি পাথর নেওয়া যেতে পারে।

এক-একটি রাশির মানুষের জন্য পাথর নির্বাচনে জেরিল কিনের বিবেচনাগুলো কী কী ছিল- তা অন্তত আমার জানা নেই।

কোন জাতক বা জাতিকার জন্য কোন পাথরটি বা পাথরগুলো উপযোগী- সেটা একটা বিষয়। অন্য বিষয়টি হল- ওই পাথর কতো ওজনের হতে হবে।
এটা এক-এক ক্ষেত্রে এক-এক রকম হতে পারে।
ওজন নির্ধারণ করবেন জ্যোতিষী মহোদয় নিজে।
এটা তাঁর বিবেচ্য বিষয়।

তবে, আকিক, নামে যে পাথরটি রয়েছে –
সেটি সবক্ষেত্রেই আট ( ৮ৎ) ক্যারেট ওজনের হওয়া বাঞ্ছনীয়। ৮ ক্যারেটের আকিক একান্তই না পাওয়া গেলে ৭ অথবা ৯ ক্যারেটের হতে হবে। এই বিষয়টি অনেক জ্যোতিষীরই জানা নেই।

মনে রাখবেন, খাঁটি এবং শাস্ত্র সম্মত মতে উপযুক্ত ওজনের উপযুক্ত পাথর পরলে তা স্বাস্খ্যের মাধ্যমে আপনার উপকার সাধন করতে পারে। আর একটি কথা, আমি মনে করি ১০ আঙ্গুলে ২০ টি পাথর পরার বাতিক থাকা উচিত নয়। সুনির্বাচিত ১টি অথবা ২টি- মাত্র পাথর ব্যবহার করাই যথেষ্ট।

আপনার জন্ম রাশি অনুযায়ী কোন রত্ন শুভ

গ্রিক রাশিশাস্ত্রমতে একজন মানুষের কেবলমাত্র জন্মতারিখের ভিত্তিতেই তার রাশি নির্ধারণ করা সম্ভব। অন্য কোনো ভাবে নয়। মোট রাশি-সংখ্যা হচ্ছে: ১২। প্রতিটি রাশির রয়েছে আলাদা-আলাদা প্রতীক চিহ্ন। আবার , রাশিগুলো পরিচালিত হচ্ছে বিভিন্ন অধিপতি গ্রহ বা চালক গ্রহ দ্বারা।

শুভ রত্ন নির্বাচন ও রত্নের ওজন নির্ধারণ:—-
ক. রাশি ভিত্তিক ছাড়াও জন্মতারিখ এবং জন্মসংখ্যা ভিত্তিক পাখর নির্বাচনের রেওয়াজ রয়েছে।
খ. ভারতীয় পদ্ধতি অনুযায়ী কার কোন পাথর লাগবে- তাও আছে। অন্যান্য দেশের জ্যোতিষাশাস্ত্রেও ভিন্নতর নিয়ম থাকতে পারে।
গ. রোগ প্রতিরোধে ও রোগ নিরাময় বা চিকিৎসার সহায়ক হিসেবেও আছে বিশেষ ওজনের বিশেষ পাথর ব্যবহারের বিধান , যাকে বলা হয় —–
‘’ জেমস্টোন থোরাপি ‘’।
ঘ. কাকে কোন উদ্দেশ্যে কোন ওজনের পাথার দেওয়া প্রয়োজন- তা নির্ভর করে জ্যোতিষী মহোদয়ের বিচার-বিবেচনার ওপর।

জন্ম রাশি ও রত্ন

মেষ রাশির শুভ রত্ন :— ( মার্চ ২১ – এপ্রিল ২০ )
মেষ রাশির অধিপতি গ্রহ বা চালক গ্রহ হচ্ছে: মঙ্গল
উপযুক্ত শুভ পাথর: হীরা
বৃষ রাশির শুভ রত্ন :— ( এপ্রিল ২১ – মে ২১ )
বৃষ রাশির অধিপতি গ্রহ বা চালক গ্রহ হচ্ছে: শুক্র
উপযুক্ত শুভ পাথর: পান্না

মিথুন রাশির শুভ রত্ন : — ( মে ২২ – জুন ২১ )
মিথুন রাশির অধিপতি গ্রহ বা চালক গ্রহ হচ্ছে: বুধ
উপযুক্ত শুভ পাথর: মুক্তা

কর্কট রাশির শুভ রত্ন :— ( জুন ২২ – জুলাই ২২ )
কর্কট রাশির অধিপতি গ্রহ বা চালক গ্রহ হচ্ছে: চন্দ্র
উপযুক্ত শুভ পাথর: চুনি

সিংহ রাশির শুভ রত্ন :— (:জুলাই ২৩ – আগষ্ট ২৩ )
সিংহ রাশির অধিপতি গ্রহ বা চালক গ্রহ হচ্ছে:— রবি
উপযুক্ত শুভ পাথর:— সারডনিক্স

কন্যা রাশির শুভ রত্ন :— ( আগষ্ট ২৪ – সেপ্টেম্বর ২৩b)
কন্যা রাশির অধিপতি গ্রহ বা চালক গ্রহ হচ্ছে: বুধ
উপযুক্ত শুভ পাথর: ইন্দ্রনীল/নীলা

তুলা রাশির শুভ রত্ন : — ( সেপ্টেম্বর ২৪ – অক্টোম্বর ২৩ )
তুলা রাশির অধিপতি গ্রহ বা চালক গ্রহ হচ্ছে: শুক্র
উপযুক্ত শুভ পাথর: ওপ্যাল

বৃশ্চিক রাশির শুভ রত্ন :— ( অক্টোম্বর ২৪ – নভেম্বর ২২ )
বৃশ্চিক রাশির অধিপতি গ্রহ বা চালক গ্রহ হচ্ছে: মঙ্গল
উপযুক্ত শুভ পাথর: পোখরাজ

ধনু রাশির শুভ রত্ন :— (:নভেম্বর ২৩ – ডিসেম্বর ২১ )
ধনু রাশির অধিপতি গ্রহ বা চালক গ্রহ হচ্ছে: বৃহস্পতি
উপযুক্ত শুভ পাথর: ফিরোজা

মকর রাশির শুভ রত্ন :— ( ডিসেম্বর ২২ – জানুয়ারি ২০ )
মকর রাশির অধিপতি গ্রহ বা চালক গ্রহ হচ্ছে: শনি
উপযুক্ত শুভ পাথর: তামড়ি

কুম্ভ রাশির শুভ রত্ন :— (vজানুয়ারি ২১ – ফেব্রুয়ারি ১৮ )
কুম্ভ রাশির অধিপতি গ্রহ বা চালক গ্রহ হচ্ছে: শনি
উপযুক্ত শুভ পাথর: রাজবর্ত্ম

মীন রাশির শুভ রত্ন : — ( ফেব্রুয়ারি ১৯ – মার্চ ২০ )
মীন রাশির অধিপতি গ্রহ বা চালক গ্রহ হচ্ছে: বৃহস্পতি
উপযুক্ত শুভ পাথর: অ্যাকুয়ামেরিন

রত্ন পাথর ও গ্রহদোষ প্রতিকার :-

জীবন যেখানে দ্রোহের প্রতিশব্দ মৃত্যুই সেখানে শেষ কথা নয়। হ্যাঁ বাদী ও না বাদীদের কোন সমস্যা নেই , সমস্যায় পড়েন মধ্যমপন্থীরা। জ্যোতিষ শাস্ত্রের কুষ্টি উদ্ধারের লোক যেমন আছে তেমনি এর প্রতিষ্ঠা জন্য লোকেরও অভাব নেই। পদার্থ বিজ্ঞানের ছাত্র হলেও আমি কোন জ্ঞানকেই ছোট করে দেখি না। শখের বশে চর্চাকরি নিজের জন্য। তার যৎসামান্য আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম । যদি বিশ্বাস করেন তবে দেখে নিন আপনি গ্রহ জনিত সমস্যায় আক্রান্ত হলে কোন পাথর ব্যবহার করবেন ও তার কী গুন আর বিশ্বাস না হলে ধরে নিন এটি একটি নিছক রম্য পোস্ট।

রত্ন পাথরের প্রকার ভেদ

নব গ্রহের জন্য নয়টি রত্ন পাথর নির্দেশিত ,তা হল – রুবি , মুক্তা , হলুদ স্যাফায়ার , এমারেল্ড (পান্না) , হীরা , রক্ত প্রবাল , নীল স্যাফায়ার (নীলা) , গোমেদ এবং ক্যাটস আই।

রুবি :— এটি সূর্যের কুপ্রভাব প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয়। লাল , হলুদ , ও গোলাপী রঙের হয়ে থাকে। সর্বোত্তম টি গোলাপী রঙের। এটি প্রশাসনিক কাজে সাফল্য , শত্রু মুক্তি , ঋণ ও রোগ শোক মুক্তি , দীর্ঘায়ু স্বাধীন জীবনের জন্য ব্যবহার করা হয়।

মুক্তা ( পার্ল ) :— এটি চন্দ্রের কুপ্রভাব প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয়। অনেক রঙেরই হয় তবে লাল ও সাদা গোলাকার মুক্তা সর্বোত্তম। এটি আবেগ নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন , কর্মোদ্দীপনা , সৌভাগ্য , সুনাম ও উত্তম স্মৃতিশক্তি প্রদান করে।

ইয়েলো স্যাফায়ার (পোখরাজ) :—- এটি বৃহস্পতির কুপ্রভাব প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয়। এটি হালকা হলুদ বা সোনালী বর্ণের হয়ে থাকে। এটি আপনাকে মেধাবী , দানশীল , ধার্মিক ও অপরের নিকট সম্মানিত ব্যাক্তিতে পরিনত করে। প্রদান করে সুখ , সুসন্তান , সম্পদ , অর্থ সম্পদ , সুনাম , সাফল্য । শিক্ষা ক্ষেত্রে বাধা এবং অহেতুক সম্পদ ক্ষয় প্রতিরোধ কল্পে হলুদ স্যাফায়ারের কোন বিকল্প নেই।

এমারেল্ড (পান্না) :— এটি বুধের কুপ্রভাব প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয়। এটি সবুজ ভেলভেট রঙের হয়ে থাকে। সম্পদ , সন্তান , ভূসম্পত্তি , সুস্বাস্থ্য , সুখ সমৃদ্ধি , পেশাগত সুনাম ও সম্মান অর্জনের জন্য উত্তম।

ডায়মন্ড ( হীরা ) :— এটি শুক্র কুপ্রভাব প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয়।সাদা , লাল , নীল , কালো রঙের হয়ে থাকে। এটি দীর্ঘায়ু ও জীবনে সমৃদ্ধি প্রদান করে। সৌভাগ্য , নাম , যশ , বুদ্ধিমত্তা , সন্তান ও সুখী বিবাহিত জীবন প্রদান করে থাকে।

রক্ত প্রবাল (রেড কোরাল) :— এটি মঙ্গলের কুপ্রভাব প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয়। মূলত লাল রঙের হয়ে থাকে। এটি উৎসাহ প্রদান , নেতৃত্ব গুন প্রদান , দ্রুততম সময়ে উন্নতি , মারিরিক সক্ষমতা , উচ্চাশা , সম্পদ অর্জন , কারিগরি পেশায় সাফল্য প্রদান করে থাকে।এটি সন্তান লাভ , সৌভাগ্য এবং পেশাগত জীবনে সাফল্যও প্রদান করে।

ব্লু স্যাফায়ার (নীলা) :— এটি শনির কুপ্রভাব প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয়। কালো বা হালকা নীল রঙের হয়ে থাকে। এটি এক দিকে যেমন উপকারী তেমনি এটি যদি জাতকের জন্য সহ্য বা উপযুক্ত না হয় হয় তবে এর ধারন তার জীবনকে দুর্বিসহ করে তুলবে। কিছুদির পরীক্ষা করে তবেই তা ধারন করা উচিৎ। এটি ইচ্ছাশক্তি , সমন্বয়তা , শৃংখলা , আধ্যাত্মিক অর্জন , ধৈর্য্য , নিবেদিত প্রান কর্ম নেতৃত্ব গুন এবং সর্বোচ্চ মানবীয় গুনাবলী প্রদান করে। ণাম , যশ , অর্থ ও সাফল্য অর্জন তখন সময়ের ব্যপার মাত্র। এটি সকল রত্ন পাথরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালি। এটি সকলের সহ্য হয়না।

গোমেদ :— এটি রাহুর কুপ্রভাব প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয়। এটি মধুর মত রঙ , ধোয়টে বা লাল রঙের হয় । এটি স্বাস্থ্য , শত্রুবিজয় , সম্পদ ও সমৃদ্ধি দান করে। রোগ মুক্তি , জ্ঞান এবং বুদ্ধিমত্তাও প্রদান করে। শিক্ষা , পেশা , পদোন্নতি ও ব্যবসায়ে অসাধারন সাফল্য প্রদান করে। আত্মীয়দের শত্রুতা দূরীকরন , অশুভ শক্তি থেকে মুক্তি এবং সুখ নিদ্রা , প্রভাবশালী জীবন যাপন , রাজনৈতিক প্রতিপত্তি , সুনাম এ সম্পদ দানের জন্য এটি বিখ্যাত।

ক্যাটস আই :— এটি কেতুর কুপ্রভাব প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয়।হলুদাভ বা কালচে রঙের দেখতে। মাঝখানে একটি উজ্জ্বল ব্যান্ড দেখা যায়। হারানো সম্পদ পুনোরোদ্ধার , দারিদ্র ও রোগ শোক বিনাশ , শত্রুক্ষয় ও শত্রুদের উপর জয় লাভ করার জন্য এটি একটি অতিশয় দ্রুততম সময়ে কার্যকরী রত্ন। এই পাথর আত্মিক উন্নতি ঘটায় , মনকে শান্ত করে ও ক্রোধকে তরলীভূত করে। জাতক নাম , সম্মান ও সম্পদ অর্জন সহ আত্মীয় ও শত্রুদের দ্বারা ও উপকার লাভ করে। এটি সন্তানদের মঙ্গল করে , সন্তানহীনদের সন্তান দান সহ আকষ্মিক দূর্ঘটনা থেকে পরিত্রাণ ও দ্রুততম সময়ে বিবাহ নিশ্চিত করে।

রত্ন ধারণের নিয়ম

বৈজ্ঞানিক ভাবে সুনির্দিষ্ট অশুভ গ্রহের জন্য জাতক কর্তৃক মেডিটেশন মূলক মন্ত্রোচ্চারণ তার চারদিকে একটি প্রতিরক্ষা বলয় তৈরী করে। আর রত্ন পাথর গ্রহ শক্তিকে কেন্দ্রীভূত করে মানব শরীরে প্রবাহিত করে।

ফলে অশুভ গ্রহ দ্বার আক্রান্ত মানুষ সহজেই তার কুপ্রভাব থেকে মুক্ত হতে পারেন। নির্দিষ্ট গ্রহের জন্য রত্ন পাথর নির্ধারিত।

আগে আপনার জন্য কোনটি নির্দেশিত তা বের করুন এবং সঠিক স্থান হতে আসল রত্ন পাথর ক্রয় করুন।

তার পর তার নির্দেশিত ধাতুর আংটিতে এমন ভাবে বসিয়ে পরিধান করুন যাতে পাথরে নিম্নাংশ আপনার আঙ্গুলে সর্বদা লেগে থাকে।

নির্ধারিত তিথিতে নির্ধারিত আঙ্গুলে নির্দেশিত পাথর পরিধান বাধ্যতামূলক।

যদি পাথর পরিধানের পর অস্বস্থি হয় তবে তা খুলে ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ। পরে আবার ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

তবে অবশ্যই ভালমানের পাথর বিশেষজ্ঞ এবং
জ্যোতিষ শাস্ত্রীর পরামর্শক্রমে ধারণ কর্ত্তব্য।

রত্ন বিষয় এই সকল তথ্য যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই সকলকে শেয়ার করুন। রত্নের বিষয় আরো জানতে কমেন্ট করে জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x