নবদ্বীপের আগমেশ্বরী মাতা বাংলার প্রথম পূজিত দক্ষিণা কালী

নবদ্বীপের আগমেশ্বরী মাতা বাংলার প্রথম পূজিত দক্ষিণা কালী

নবদ্বীপের আগমেশ্বরী মাতা বাংলার প্রথম পূজিত দক্ষিণা কালী জেনে নিন প্রায় চারশো বছরের ইতিহাস

নবদ্বীপের আগমেশ্বরী মাতা ” বাংলার প্রথম পূজিত দক্ষিণা কালী। প্রায় চারশো বছর আগে সাধক কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ আদেশ পান সকালে উঠে যে নারী রূপ দেখবেন সেই রূপে শ্যামা বা দক্ষিণা কালী পুজো করার৷ ভোরে কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ বাইরে দেখেন এক গোপ বধূ দেওয়ালে ঘুঁটে দিচ্ছেন৷ যাঁর উদ্ধার্ঙ্গ অনাবৃত৷ এলো চুল৷ ঠাকুর মশাইকে হঠাৎ দেখে ঐ মহিলা লজ্জায় জিভ কাটেন৷ সাধক সেই থেকে পাঁচ পোয়া খড়ের মূর্তি গড়ে কালীপুজোর প্রচলন করেন৷ দীপান্বিতা অমাবস্যার দিন কালীপ্রতিমা নির্মাণ করে রাতে পুজোর পর ভোরে বিসর্জন দেন৷

বাংলায় দক্ষিণা কালীর প্রবর্তক হলেন কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ। তিনি ছিলেন সপ্তদশ শতকের এক উচ্চস্তরের তন্ত্রসাধক, যিনি নদীয়া জেলার নবদ্বীপ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। অনেকেই তাঁকে শ্রীচৈতন্যদেবের সমসময়িক বলেছেন। তাঁর পিতার নাম মহেশ্বর গৌড়াচার্য। কৃষ্ণানন্দ বাংলায় “কৃষ্ণানন্দ ভট্টাচার্য্য” নামে পরিচিত ছিলেন। তন্ত্রশাস্ত্রে সুপন্ডিত এই তন্ত্রসাধক ১৭০ টি গ্রন্থ থেকে নির্যাস গ্রহণ করে বিখ্যাত “তন্ত্রসার” গ্রন্থটি কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ রচনা করেন এবং সমগ্র দেশে এই গ্রন্থটি সমাদৃত হয়। কৃষ্ণানন্দ ছিলেন উদারচেতা, ধর্মবিষয়ে তাঁর কোনো গোড়ামি ছিল না। তাই তন্ত্রসার গ্রন্থে শৈব, গাণপত্য, শাক্ত, বৈষ্ণব ও সৌর সম্প্রদায়ের তন্ত্রগ্রন্থগুলির সার গ্রহণ করে সন্নিবেশিত হয়েছে। তিনি তন্ত্র বিষয়ে তত্ত্ববোধিনী নামে আরও একটি গ্রন্থ লেখেন।

নবদ্বীপের আগমেশ্বরী মাতা বাংলার প্রথম পূজিত দক্ষিণা কালী

এদেশে যে ব্যাপক দক্ষিণা কালীর পুজো প্রচলন রয়েছে, তার রূপ এবং পুজো পদ্ধতির রূপকার হলেন কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ। তার বৃহৎ তন্ত্রসারেই শ্যামাপূজা বা দক্ষিণা কালীর প্রথম কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ লিখিত পুজো পদ্ধতি পাওয়া যায়। কৃষ্ণানন্দ প্রথম ব্যক্তি যিনি শাস্ত্র বর্ণিত দেবীর সাকার মূর্তি প্রকাশ করেন। প্রতিষ্ঠা লগ্নে মাতৃ প্রতিমা কিঞ্চিৎ ছোট আকারে পূজিতা হলেও পরবর্তী কালে তা বর্ধিত হয়।

নবদ্বীপের আগমেশ্বরী মাতা এবং তার ইতিহাস

তন্ত্রসাধক কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন নবদ্বীপের আগমেশ্বরী কালী। আগমেশ্বরী কালী প্রায় চারশো বছরের প্রাচীন। নবদ্বীপের আগমেশ্বরী বর্তমানে আগমেশ্বরীপাড়ায় যেখানে আগমেশ্বরী মন্দিরটি অবস্থিত। ওই অঞ্চলটি কৃষ্ণানন্দের সময়ে কিছুটা ঝোপঝাড় জঙ্গলাকীর্ণ আর কিছুটা অংশে গোপ-সম্প্রদায়ের বাস ছিল। আগমেশ্বরী মন্দিরটি পঞ্চমুণ্ডীর আসনের উপর নির্মিত। আনুমানিক ১৮০০ খ্রীষ্টাব্দের শেষ দিকে ছোট আকারের মন্দির নির্মিত হয়েছিল।

২০০৩ খ্রীষ্টাব্দে মন্দির সংস্কার করে নতুন করে গড়ে তোলা হয়। এই পঞ্চমুণ্ডীর আসনেই সাধনা করে কৃষ্ণানন্দ আগমসিদ্ধ হয়ে আগমবাগীশ হয়ে ওঠেন। কৃষ্ণানন্দ দীপান্বিতা অমাবস্যায় একই দিনে কালীমূর্তি গড়ে রাত্রে পূজার্চনা শেষে ভোরে বিসর্জন দিতেন। বর্তমানে এত বড় প্রতিমা এক দিনে গড়া সম্ভব হয় না। এখন কোজাগরী পূর্ণিমার পর কৃষ্ণাপঞ্চমী তিথিতে প্রতিমা নির্মাণের কাজ শুরু হয়।

কৃষ্ণানন্দের পঞ্চদশ উত্তর প্রজন্ম বংশের নিয়ম মেনেই পঞ্চমীতে নিজের হাতে তৈরি করেন পাঁচ পোয়া খড়ের মূর্তি। তারপর পরের একাদশী পর্যন্ত ঐ মূর্তিরই পুজো ও ভোগ হয়। একাদশীতে যখন বড় প্রতিমার খড় বাঁধা হয় তখন ছোট ৫ পোয়ার প্রতিমাকে স্থাপন করা হয় বড় প্রতিমার বুকে। চতুর্দশীতে বসে প্রতিমার মাথা। প্রতি বছর কার্তিকী অমাবস্যার ঘোর নিশুতি রাত্রিতে মাতৃ প্রতিমায় চক্ষুদানের সঙ্গে সঙ্গেই পুজো শুরু হয়ে যায়। বড় গোস্বামী বাড়ির গৃহবধূরা সম্মিলিত হয়ে পুজোয় ছত্রিশপদের ভোগ রান্না করেন এবং তা বিয়াল্লিশটি পাত্রে সাজিয়ে মায়ের সামনে ভোগ আকারে নিবেদন করেন।

আগমেশ্বরী কালী পুজোর ভোগে দিতে হয় অড়হর ডালের খিচুড়ি, এঁচোড়, মোচা আর চালতার টক। পরের দিনই ১২টার আগে বেহারাদের কাঁধে চেপে আগমেশ্বরী প্রতিমাকে নগর পরিদর্শন করানোর পর বিসর্জন দেওয়া হয় মতিগঞ্জ ঘাটে।

 

২০২২ সাল মেষ রাশির কেমন যাবে জেনে নিন এই লিঙ্কটি ওপেন করে ( মেষ রাশিফল ২০২২ সাল )

 

২০২২ সাল বৃষ রাশির কেমন যাবে জেনে নিন এই লিঙ্কটি ওপেন করে ( বৃষ রাশিফল ২০২২ সাল )

 

২০২২ সাল মিথুন রাশির কেমন যাবে জেনে নিন এই লিঙ্কটি ওপেন করে ( মিথুন রাশিফল ২০২২ সাল )

 

২০২২ সাল কর্কট রাশির কেমন যাবে জেনে নিন এই লিঙ্কটি ওপেন করে ( কর্কট রাশিফল ২০২২ সাল )

 

২০২২ সাল সিংহ রাশির কেমন যাবে জেনে নিন এই লিঙ্কটি ওপেন করে ( সিংহ রাশিফল ২০২২ সাল )

 

২০২২ সাল কন্যা রাশির কেমন যাবে জেনে নিন এই লিঙ্কটি ওপেন করে ( কন্যা রাশিফল ২০২২ সাল )

 

২০২২ সাল তুলা রাশির কেমন যাবে জেনে নিন এই লিঙ্কটি ওপেন করে ( তুলা রাশিফল ২০২২ সাল )

 

২০২২ সাল বৃশ্চিক রাশির কেমন যাবে জেনে নিন এই লিঙ্কটি ওপেন করে ( বৃশ্চিক রাশিফল ২০২২ সাল )

 

২০২২ সাল ধনু রাশির কেমন যাবে জেনে নিন এই লিঙ্কটি ওপেন করে ( ধনু রাশিফল ২০২২ সাল )

 

২০২২ সাল মকর রাশির কেমন যাবে জেনে নিন এই লিঙ্কটি ওপেন করে ( মকর রাশিফল ২০২২ সাল )

 

২০২২ সাল কুম্ভ রাশির কেমন যাবে জেনে নিন এই লিঙ্কটি ওপেন করে ( কুম্ভ রাশিফল ২০২২ সাল )

 

২০২২ সাল মীন রাশির কেমন যাবে জেনে নিন এই লিঙ্কটি ওপেন করে ( মীন রাশিফল ২০২২ সাল )

 

কৃষ্ণানন্দ তাঁর সাধনলব্ধ ঐশী শক্তির দ্বারা দৈবাদেশ পান ও সেই মতো তিনি মা কালীর শান্ত রূপ কল্পনা করেন। সেই রূপ দক্ষিণাকালী নাম খ্যাত। ভক্তিনম্র হৃদয়ে প্রাণের আকুতি নিয়ে সহজ সরল পদ্ধতিতে মায়ের সেই মঙ্গলময়ীরূপী বিগ্রহ তৈরি করে তিনিই বাংলার ঘরে ঘরে মা কালীর পূজার প্রচলন করেন।কৃষ্ণানন্দ দীপান্বিতা অমাবস্যায় একই দিনে ছোট আকারের কালীমূর্তি নির্মাণ করে রাত্রে পূজার্চনা শেষে ভোরে বিসর্জন দিতেন। এই কারণে লোকে বলতো “আগমবাগীশি কালী” কথাটি প্রবাদে পরিণত হয়েছিল। পরবর্তীতে তাঁর পূজিত দেবী আগমেশ্বরী মাতা নামে প্রতিবছর নবদ্বীপে পূজিত হয়।

নবদ্বীপের আগমেশ্বরী মাতা বাংলার প্রথম পূজিত দক্ষিণা কালী

কৃষ্ণানন্দ মা কালীর রূপ কিভাবে পেলেন, এই নিয়ে বাংলার ঘরে ঘরে এক প্রচলিত শ্রুতি পাওয়া যায়। ক’দিন ধরেই পুজোয় বসে কালীসাধক কৃষ্ণানন্দ বায়না করেন, “ এ বার সাকার রূপে দেখা দাও মা, মূর্তি গড়ে তোমার অর্চনা করি! ” সন্তানের আকুতি মা ফেলতে পারলেন না। বিধান দিলেন, মহানিশার অবসানে প্রাতঃমুহূর্তে কৃষ্ণানন্দ প্রথম যে নারীমূর্তি দর্শন করবেন, সেই মূর্তিই হবে ইচ্ছাময়ীর যথার্থ সাকার মূর্তি। পরের দিন ভোরে গঙ্গাস্নানে বেরিয়ে কৃষ্ণানন্দ দেখলেন, এক দরিদ্র বধূ গাছের গুঁড়ির উপর নিবিষ্ট মনে ঘুঁটে দিচ্ছেন। বাঁ হাতে গোবরের মস্ত তাল, ডান হাত উঁচুতে তুলে ঘুঁটে দিচ্ছে। নিম্নবর্গীয় কন্যা, গাত্রবর্ণ কালো, বসন আলুথালু, পিঠে আলুলায়িত কুন্তল, কনুই দিয়ে কপালের ঘাম মুছতে গিয়ে সিঁদুর লেপ্টে গেছে। এ হেন অবস্থায় পরপুরুষ কৃষ্ণানন্দকে দেখে লজ্জায় জিভ কাটলেন সেই বধু।— এই ছবিটিই মানসপটে এঁকে গঙ্গামাটি নিয়ে মূর্তি গড়তে বসলেন কৃষ্ণানন্দ। কৃষ্ণানন্দের এই মূর্তিই পরবর্তীতে দুই বাংলায় জনপ্রিয় হয়ে উঠল।

নবদ্বীপের আগমেশ্বরী মাতা বাংলার প্রথম পূজিত দক্ষিণা কালী

গবেষকেরা মনে করেন, মহাপণ্ডিত আগমবাগীশ দেবীর রূপকল্প নির্মাণের সময় ‘কালীতন্ত্রে’ দেবী রূপের বর্ণনাকে অনুসরণ করেছিলেন। ‘করালবদনা ঘোরাং মুক্তকেশীং চতুর্ভুজাম…’। দক্ষিণাকালী ঘোর কৃষ্ণবর্ণা, আলুলায়িত কেশরাশি। গোবরের তাল ধরা ডান হাত যেন বরাভয়ের মুদ্রা। ঘুঁটে ছুড়তে ব্যস্ত বাঁ হাতে ঠাঁই পেল অশুভ শক্তি বিনাশক খড়্গ। কপাল জুড়ে ছড়িয়ে থাকা সিঁদুর হয়ে উঠল তৃতীয় নয়ন। দক্ষিণাকালীর এই মূর্তি ক্রমশ প্রিয় হয়ে ওঠে।

আগমবাগীশকে কষ্ট দিয়েছিল শক্তিসাধনার নামে তন্ত্রের অপব্যবহার। তিনি তাবৎ তন্ত্রের সার সংকলন করে রচনা করলেন ‘বৃহৎ তন্ত্রসার’। সহজ সরল পদ্ধতিতে সকলের উপযোগী করে শক্তিসাধনার নতুন ধারা সৃষ্টি করলেন। নির্মাণ করলেন এক শান্ত শক্তিমূর্তি যা দেখে ভয়ের বদলে ভক্তিতে নুয়ে আসে মাথা। অমাবস্যার রাতে যে দক্ষিণাকালীর আরাধনা এখন ঘরে ঘরে হয়। তারও প্রবর্তন করেন আগমবাগীশ। ইতিহাস বলে, এই গোটা ব্যাপারটাই ঘটে ছিল নবদ্বীপে, চৈতন্যজন্মের একশো বছরের মধ্যে। তাই চৈতন্যভূমি হওয়া সত্ত্বেও বঙ্গদেশের অন্যতম প্রধান শক্তিক্ষেত্র নবদ্বীপের গুরুত্ব আলাদা। ষোলো শতকের মধ্যভাগে নবদ্বীপের পণ্ডিতবংশে জন্মগ্রহণ করেন কৃষ্ণানন্দ। পিতা মহেশ্বর গৌড়াচার্য। চৈতন্যদেব যেমন বৈষ্ণবধর্মের আমূল সংস্কার করে সকলের কাছে পৌছে দিয়েছিলেন, একই ভাবে কৃষ্ণানন্দও বঙ্গদেশে শক্তি সাধনার ধারাটিকে আমূল বদলে সাধারনের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন।

নবদ্বীপের আগমেশ্বরী মাতা এবং তাই ইতিহাস তথা অজানা কথা কেমন লাগলো অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। এবং সকলের মধ্যে শেয়ার করবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

x