কালো সুতোর চমৎকার ভাগ্য উন্নতি কালো সুতোর ব্যবহার কি ভাবে করবেন

কালো সুতোর চমৎকার ভাগ্য উন্নতি কালো সুতোর ব্যবহার কি ভাবে করবেন

কালো সুতোর চমৎকার ব্যবহারে কি ভাবে ভাগ্য উন্নতি হয় দেখে নিন।

কালো সুতোর ব্যবহার মানব জীবনে সৌভাগ্য ফেরাতে বহু প্রাচীন কাল থেকে চলে আসছে। বর্তমানে অনেকে স্ট্যাইল করার জন্য শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালো সুতো ব্যবহার করে থাকে।

কালো সুতোর ব্যবহার বিভিন্ন ধর্মেরে মানুষরা করে থাকেন। নেগেটিভ শক্তিকে নাশ করতে কালো সুতো ব্যবহার করা হয়। আপনি নিশ্চয়ই অনেককেই দেখেছেন যে, গোড়ালি, গলা, কোমর বা কব্জিতে কালো সুতো পরতে। কয়েকজন কালো সুতো পরেন নিজেকে স্টাইলিশ দেখাতে আবার, কয়েকজন এটিকে একটি পবিত্র সুতো হিসেবে বিবেচনা করেন যা, চারপাশের সমস্ত নেগেটিভ শক্তি থেকে আমাদের রক্ষা করবে। কেউ কেউ কালো সুতোকে সৌভাগ্যের প্রতীক রূপেও বিবেচনা করে থাকেন।

কালো সুতোর চমৎকার ভাগ্য উন্নতি কালো সুতোর ব্যবহার কি ভাবে করবেন

কালো সুতোর সাথে জড়িয়ে রয়েছে ধর্মীয় বিশ্বাস। আসুন এবার একটু বিস্তারিত জানা যাক।

কেন কালো সুতো ধারণ করা হয়?

ভারতীয় সনাতন ধর্মে, কালো রঙকে অশুভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষত, কোনও পবিত্র বা শুভ কাজের ক্ষেত্রে কালো রঙ খুব একটা ব্যবহার করা হয় না এবং সাদা, হলুদ, কমলা, লাল বা অন্যান্য রঙ ব্যবহৃত হয়। ভারতে কোনও পবিত্র অনুষ্ঠানের সময় বা কোনও ধর্মীয় কাজের ক্ষেত্রে কালো রঙের পোশাক পরা এমন ব্যক্তি খুব কমই দেখতে পাবেন। কিন্তু, তারপরেও কেন আমাদের মধ্যেই অনেকের দেহে কালো সুতোর পরতে দেখা যায় !

হিন্দু ধর্মে, কালো রঙ ন্যায়বিচারের দেবতা শনি-এর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানা যায়। মনে করা হয় যে, তিনিই সেই দেবতা যিনি কোনও ব্যক্তির কর্মের ভিত্তিতে তাকে পুরস্কৃত করেন বা শাস্তি দেন। শনিদেব হলে কর্ম ফল দাতা। তিনি তুষ্ট হলে মানব জীবনের নগেটিভ শক্তির দিকগুলি বন্ধ করে দেন এবং আশা, আগ্রহ এবং ইতিবাচক শক্তি দিয়ে আশীর্বাদ করেন। সুতরাং, যখন কেউ গোড়ালিতে কালো সুতো বাঁধে, তখন সেই ব্যক্তিটি নেতিবাচক এবং অশুভ শক্তি থেকে দূরে থাকে। গলা, কোমর বা হাতেও কালো সুতো পরা হয়। মানুষ সাধারণত এটি পরিধান করে, কালো জাদু বা মন্দ উদ্দেশ্য আছে এমন ব্যক্তিদের থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে। অনেক বাচ্চাদের শরীরেও তাদের মায়েরা কুনজর এড়াতে এই সুতো বেঁধে দেন।

তবে, কালো সুতো তখনই ইতিবাচক ফলাফল দেবে যখন নির্দিষ্ট কিছু বিষয় মাথায় রেখে এটি পরা হবে।

বশীকরণ কি আদেও হয়। কি ভাবে বশীকরণ করবেন তার সাতটি টোটকা আপনার জন্য। এই লিঙ্কটি ওপেন করুন।

কালো সুতো পরার সময় অবশ্যই এই বিষয়গুলি মনে রাখা উচিত

কালো সুতোর চমৎকার ভাগ্য উন্নতি কালো সুতোর ব্যবহার কি ভাবে করবেন

 

১) কালো সুতোতে অবশ্যই নয়টি গিঁট বেঁধে তারপর তা গোড়ালিতে পরতে হবে।

২) কালো সুতো পরা আগে অবশ্যই তা শনিদেব ও হনুমানের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা উচিত। এটি করার পরে, সুতোটি শক্তিশালী হয়ে ওঠে পবিত্র মন্ত্রের দ্বারা।

৩) এটি অবশ্যই শুভ সময়ে পরিধান করা উচিত। নাহলে সুতোটি কার্যকর নাও হতে পারে। এর জন্য আপনি কোনও পুরোহিত বা জ্যোতিষ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন।

৪) আপনি যখন আপনার গোড়ালি, কোমর, গলা বা হাতে কালো সুতো বাঁধবেন তখন এটি ২, ৪, ৬ বা ৮টি বৃত্তে বাঁধবেন।

৫) ভগবান হনুমানকে অর্পণ করার পরে গলায় কালো সুতো বাঁধলে, সেই ব্যক্তি স্বাস্থ্য এবং ইতিবাচক শক্তির আশীর্বাদ পায়।

৬) আপনি যদি শনি দেবতার আশীর্বাদ পেতে চান এবং আপনার শত্রুদের থেকে অক্ষত থাকতে চান তবে, আপনাকে অবশ্যই জ্যোতির্বিদের সঙ্গে পরামর্শ করার পরে শনিবার এই সুতোটি পরতে হবে নয়টি গিঁট বেঁধে।

কালো সুতোর চমৎকার ভাগ্য উন্নতি কালো সুতোর ব্যবহার কি ভাবে করবেন

৭) আপনার দেহের যেকোনও অংশে কালো সুতোর বাঁধার পরে রুদ্র গায়ত্রী মন্ত্রটি পাঠ করুন। মন্ত্রটি পাঠ করার জন্য আপনি একটি নির্দিষ্ট সময়ও বেছে নিতে পারেন। মন্ত্রটি হল –

ওঁ তৎপুরুষায় বিদ্মহে মহাদেবায় ধীমহি।।

তন্নো রুদ্রঃ প্রচোদয়াৎ।।

৮) যাঁরা ইতোমধ্যে হাতের কব্জিতে হলুদ, লাল বা গেরুয়া রঙের সুতো পরেছেন, তাদের অবশ্যই কোনও কালো সুতো বাঁধা উচিত নয়।

৯) যেহেতু কালো সুতোটি শনি দেবতার প্রতীক, তাই অবশ্যই এটি গ্রহের গতিবিধি এবং দশা বিশ্লেষণ করার পরেই পরতে হবে।

কালো সুতোর চমৎকার নিয়ে আরো কয়েকটি প্রবন্ধে বিশদ আলোচনা করা হবে। এই পোস্টটি সকলের মধ্যে শেয়ার করুন। যাতে সকলে কালো সুতোর চমৎকার বিষয়টি জানতে পারে।

x